মোঃ মাসুদ রানা, কুমিল্লা: কুমিল্লার দেবিদ্বারে আকস্মিক ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সবজি, মাছ এবং মাংসের দাম। বিশেষ করে ইলিশ ও কাঁচা মরিচের দাম পৌঁছেছে আকাশছোঁয়া পর্যায়ে। নিত্যপণ্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ মানুষ। বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না বললেই চলে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দেবিদ্বার উপজেলার নিউমার্কেট সদর বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের বাজারদরের এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি সবজিই দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা এবং শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। এছাড়া মাঝারি আকারের প্রতিটি লাউ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং এক হালি লেবু ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তুলনামূলক কম দামে মিলছে কেবল পেঁপে (৪০ টাকা কেজি) ও আলু (৩৫ টাকা কেজি)।
মাছের বাজারে রুই মাছ (৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি সাইজ) প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ টাকা এবং ছোট সাইজের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে ইলিশের বাজার। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় এবং এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা।
অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, কক মুরগি ৩০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা।
বাজার করতে আসা গৃহিণী সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাজারের যে অবস্থা, তাতে শাকসবজি কিনতেই নাভিশ্বাস উঠছে। মাছ-মাংস কেনা তো এখন কল্পনার বাইরে।’
আরেক ক্রেতা সুলতান আহমেদ ও লিমন বলেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে যেভাবে দাম বেড়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। বাজার তদারকিতে প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’
অন্যদিকে, সবজি বিক্রেতা আক্তার হোসেন ও রিফাত জানান, নিমসার আড়ত থেকে চড়া দামে কিনে তাঁদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি ও টানা বৃষ্টির কারণে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে পণ্যের দামও কমে আসবে।’ তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক
